ফ্রিল্যান্সিং

আউটসোর্সিং খাতকে জাগিয়ে তুলতে বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছে সরকার

আউটসোর্সিং খাতকে জাগিয়ে তুলতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটেও বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। ২০০৯ সালে  এ খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল। সরকার সেটা প্রথম দফায় কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ করে। আর এবারের বাজেটে ডেটা এন্ট্রি, ডেটা প্রসেসিং, কল সেন্টারসহ পুরো বিপিও (বিজন্যাস প্রসেস আউটসোর্সিং) খাতকে ভ্যাট অব্যাহতি দিয়েছে।

এমনকি তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনায় ভ্যাট মওকুফ করাসহ দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণগুলোর মান বৃদ্ধিতে আরো গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। জনশক্তির তুলনায় দেশে চাকরির বাজার অপর্যাপ্ত থাকায় বেকারত্ব দূর করতে এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার এ খাতে বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘স্থাপনা বা বাড়ি ভাড়ায় ভ্যাট অব্যাহতির সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এই ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখায় দেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পথ চলা আরো সহজ হবে। এটা অবশ্যই ক্রমবিকশিত তথ্যপ্রযুক্তির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করবে।’

তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছর থেকে সরকারি উদ্যোগে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ‘লার্নিং এন্ড আর্নিং’ নামক একটি প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। চলতি বছর এই প্রজেক্টের আওতায় ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর উপর  প্রশিক্ষণ দিয়ে ৩৩ হাজার মানুষকে দক্ষ জনশক্তি হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন বলেন, ২০০৯  সালে বিপিও খাতটির অানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় তখন এ সেক্টরে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন কাজ করতেন। সরকারি সহযোগিতার কারণে বিপিও খাতে এখন ‘বাক্য’র সদস্য হয়েছে ৯৪টি কোম্পানি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে এ সেক্টরে ৩০ হাজার মানুষ কাজ করছে।  এ খাত থেকে এখন আয় হয় ৮০০ হতে ১০০০ কোটি টাকা। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং সে অনুসারে সরকার এখাতে প্রণোদনাও দিচ্ছে।