সাক্ষাৎকার

সোলার কার : ট্রান্সপোটিং জগতে এক নতুন দিগন্ত

সোলার কার : ট্রান্সপোটিং জগতে এক নতুন দিগন্ত

সুলমা রহমান অবন্তী

সুর্যরশ্মি থেকে শক্তি নিয়ে চলবে গাড়ি । লাগবে না কোন ফুয়েল বা জ্বালানী । দূর  ভবিষ্যত এখন যেনে হাতের মুঠোয় । ২০১৫ সালে ভারতের হরিয়ানায় মুল্লানা ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় সোলার এক্সিবিশন ”ইএসভিসি-২০১৫” অংশগ্রহন করে ড্যাফডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একটি টিম ”ইয়েস ইউ ক্যান” । তাদের তৈরী সোলার কার পুরষ্কার পায় “বেষ্ট ফিউচার অ্যাওয়ার্ড” । গাড়িটির ডিজাইন ডিপার্টমেন্ট এর হেড ছিলেন সুলমা রহমান অবন্তী । ড্যাফডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সিএসই তে অনার্স শেষ করে তিনি বর্তমানে ডিজিাল হাব লিমিটেড এ কর্মরত রয়েছেন । চলুন জেনে আসি তার কাছ থেকে সেই সাফল্যের ইতিকথা.

টেকনোবার্তাঃ  অবন্তী, প্রথমেই বলুন,  এই সোলার কার তৈরীর পরিকল্পনাটা হলো কিভাবে?

অবন্তী: আসলে, অতিরিক্ত জ্বালানী ব্যবহারে পরিবেশ হচ্ছে দূষিত । এই দূষিত পরিবেশ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই আমরা গ্রিন টেকনোলিজিতে মনোযোগ দিই আর সেখান থেকেই আসে সোলার কার তৈরীর পরিকল্পনা । যখন আপনি সোলার কে পাওয়ার হিসেবে ইউজ করছেন তখন লাগছেনা বাড়তি কোন ফুয়েল । তাই দূষিত পরিবেশ থেকে বাঁচার জন্য আমাদের এই উদ্যোগটা আমরা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরি ।

টেকনোবার্তাঃ এর আর কি কি সুবিধা?

অবন্তী: আমাদের দেশে মফস্বলে অনেক ইলেকট্রিক অটো বাইক দেখতে পাওয়া যায় । তাদের রিচার্জিং সিস্টেমে খরচ হচ্ছে অনেক বেশি পরিমান ইলেকট্রিসিটি । তাই ন্যাশনাল গ্রিডে অনেক বেশি চাপ পড়ছে । আমরা যদি সব গুলো অটো গাড়িগুলোকে সোলার কারে রুপান্তরিত করি তবে আমাদের জাতীয় গ্রিডে অনেক বেশি বিদ্যুত সঞ্চয় করতে পারবো যা আমাদের অন্যান্য কাজে লাগবে । তাছাড়া এই সোলার কার অনেক বেশি সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া সম্ভব ।

টেকনোবার্তাঃ কত খরচ পড়তে পারে একটি গাড়ির?

অবন্তী: যদি অনেক বেশি ইফিসিয়েন্ট আর সফিস্টিকেট করেও গাড়ি বানানো হয় তবে মার্কেটে সেটি ৫-৬ লাখ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব ।

টেকনোবার্তাঃ আপনাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা?

অবন্তী: সোলার বিপ্লব দেখতে চাই । বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ব্র্যান্ডের সাশ্রয়ী গাড়ি ব্যবহার করুক এটাই চাই । বিদ্যুত সঞ্চয় করে আরও প্রোডাকটিভ কাজ করতে চাই । জ্বালানীর অপব্যবহার রোধে এই সবুজ দেশকে আরও সবুজ করার জন্য সোলার কারকে কাজে লাগাতে চাই বিভিন্ন ভাবে । এর জন্য দরকার বড় বড় ব্যাক্তিদের সহায়তা আর মোটিভেশন । আমরা চাই সবাই এগিয়ে আসুক ।

টেকনোবার্তাঃ ডিজাইনের ব্যাপারে যদি কিছু বলতেন?

অবন্তী: আসলে ডিজাইনের সময় একটি সোলার কারকে আপনি খুব সফিসটিকেটেড লুক দিতে পারবেন না । কারন এটি কমার্সিয়াল প্রোডাকশন নয় । ডিজাইনের সময় অনেক গুলো বিষয় খেয়াল রাখতে হয়েছে । গতি ঠিক রাখার জন্য অ্যারো ডাইনামিক ঠিক রাখার পাশাপাশি গাড়ির ওজন যাতে না বেড়ে যায় সেটিও লক্ষ্য রাখা হয়েছে । সোলার ডাইমেনশান ঠিক রাখার জন্য ডিজাইনটি ফ্ল্যাট রাখা হয়েছে । যথা সম্ভব হালকা ম্যাটেরিয়াল  ইউজ করা হয়েছে ।

টেকনোবার্তাঃ সুর্য যখন থাকে না তখন এটি কিভাবে চলবে ?

অবন্তী: গাড়িটি সুর্য থেকে শক্তি নিয়ে প্রায় ৬ ঘন্টা চার্জ ব্যাক আপ করতে পারে । এটি ব্যবহার করে সুর্যের অনুপস্থিতিতেও ৬ ঘন্টা ব্যাক আপ দিতে পারবে । আর শীতকালিন বা বর্ষাকালিন সময়ের জন্য সোলার ব্যাক সিস্টেম করা যায় যা অনেক বড় প্রজেক্ট এর মাধ্যমে করা সম্ভব । এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগীতা আমাদের কাম্য ।

টেকনোবার্তাঃ শুভকামনা রইলো আপনাদের জন্য আপনারা যাতে এই প্রজেক্ট নিয়ে অনেক দূর যেতে পারেন ।

অবন্তী: ধন্যবাদ, আপনাদের সহযোগীতাই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।