সাক্ষাৎকার

উঠে আসার গল্প – এবার আমাদের সাথে আছেন ওয়েব ডেভলপার জুয়েল রানা

জুয়েল রানা , দেশের অন্যতম সেরা ওয়েব ডেভলপার। আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর দীর্ঘ দিনের এই পথচলায় তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে নিজের নাম নিয়ে গেছেন এক অন্যোন্য উচ্চতাই। বর্তমানে দেশের অন্যতম তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাউসডিটেকের হেড অব ট্রেনিং এবং আইটি এডমিন হিসেবে কর্মরত আছেন এছাড়াও তিনি দিনরাত্রির সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করছেন। এগুলোর পাশাপাশি তিনি সরকারের বিভিন্ন আইটি বিষয়ক প্রজেক্টেও কাজ করে থাকেন।ওয়েব ডেভলপিং এর নানা বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা হয় টেকনোবার্তার।

উঠে আসার গল্প

টেকনোবার্তাঃ আপনি কিভাবে এ সেক্টরে আসলেন?

জুয়েল রানাঃ পড়াশুনার পাশাপাশি ওয়েব জগত এর আগ্রহের উপর ভর করেই হুট করে এখানে এসে পড়া। এছাড়া কিছু করতে হবে, বড় কিছু হতে হবে এ তাড়না থেকেও বলতে পারেন এ সেক্টরে চলে আসা। তাছাড়া নিজের হাত খরজের পরিমান টা বেশি থাকুক আর সেটা নিজেই আর্ন করতে কে না পছন্দ করে (স্মাইল)।

টেকনোবার্তাঃ এ সেক্টরের কোন বিষয়টি আপনাকে এখানে আসতে আকৃষ্ট করেছে? 

জুয়েল রানাঃ আসলে জানার আগ্রহ আর চ্যালেঞ্জিং কিছু করা সেটা আমার ছোট বেলা থেকেই ইচ্ছা। আর এই কারনের ছোট বেলাই বডারের ওপাশে বি এস এফ , বিজিবি কে ফাকি দিয়ে চলে যেতাম খালার বাসাতে, এগুলা এখনো কন্ট্রোল করতে পারি নাই তাই বলতে পারেন কোডিং জগতে আসা। আর এ সেক্টরটি অত্যান্ত ব্যাপক, আপনি একবার এই কোডিং এর মানে বুঝতে পারলেই ভালোবেসে ফেলবেন এটাকে। আপনি কমান্ড করছেন আর সেভাবে কাজ করছে। কে না চাই নিজের কমান্ড কে এভাবে কাজে লাগাতে। আর মেইনলি এখানকার বিস্তৃত জগত এবং চাহিদার উপর ভর করেই এ সেক্টরে এসে পড়েছি । আলাদা ভাবে কোন বিষয় আমাকে আকৃষ্ট করে নাই।

টেকনোবার্তাঃ ওয়েব ডেভলপিং কারা ভালো করতে পারে? 

জুয়েল রানাঃ সহজে বলতে গেলে বলতে হয় যাদের ধৈর্য বেশি তারাই এ টাইপের কাজে বেশি ভালো করতে পারবে। কারন এখানে আপনার ধৈর্য অনেক বেশি প্রয়োজন, বিষয়টি যেহেতু শুধুই কোডিং তাই আপনাকে প্রতিটি কাজ অত্যাধিক ধৈর্যের সাহায্য প্রতিটি পদক্ষেপ দিতে হবে, আপনার একটু খানি অধৈর্যতা বা অসতর্কতা আপনার সম্পুর্ন প্রজেক্টিকেই শেষ করে দিতে পারে। এছাড়া চেষ্টা করলে মানুষের পক্ষে প্রায় সব কিছুই সম্ভব। তাই শিক্ষিত ও কম্পিউটার জ্ঞান সম্পন্ন যে কেউই চেষ্টা করলে এই সেক্টরে ভালো করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে সেক্ষেত্রে ইচ্ছা শক্তি, কাজের প্রতি একাগ্রতা থাকতে হবে।

টেকনোবার্তাঃ পেশা হিসাবে এটা কতটুকু সম্ভাবনাময়?

জুয়েল রানাঃআসলে দেখুন বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপটে কল্পনা করলে এটি বেকার যুবকদের জন্য অপার সম্ভাবনাময় একটি স্থান। এখানে আপনি ভালো করতে পারলে আপনার ক্যারিয়ার এখানেই দাড় করাতে পারবেন। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে আপনি পার্ট টাইমে জব খুজে ইতে পারবেন। এছাড়া দেশেও প্রতিটা প্রতিষ্ঠান কে প্রতিযোগিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে হলে তাদের প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে থাকতে হবে। ফলে দেশেও প্রচুর চাহিদা তৈরি হচ্ছে। ফলে বলা যাই দেশে এটি পেশা হিসাবেও প্রচুর সম্ভাবনার সৃষ্টি করছে।

টেকনোবার্তাঃ এ সেক্টরে আয়ের পরিমান কেমন ?

জুয়েল রানাঃএই ধরনের সকল কাজের আয় রোজগার নির্ভর করে নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং কাজের উপর। যে যতবেশি আউটপুট যত দ্রুত দিতে পারবে তার আয়ের পরিমাণটাও তত বাড়বে। তবে যারা এক্সিকিউটিভ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে, তাদের গড়ে বিশ হাজার থেকে পঁচিশ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। আর ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যারা কাজ শুরু করে, তারা সাধারণত মাসিক গড়ে তিনশ থেকে শুরু করে দক্ষতা অনুযায়ী কয়েকহাজার ডলারও আয় করতে পারে। তবে পেশা হিসেবে এ ক্যারিয়ার এ আসতে চাইলে অবশ্যই প্রায়োগিক দক্ষতা থাকা আবশ্যক।

টেকনোবার্তাঃ এই সেক্টরে নবীনদের জন্য আপনার পরামর্শ

জুয়েল রানাঃ আমার দৃষ্টিতে যারা এই সেক্টরে কাজ করতে চায় এবং এখানে তাদের ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তাদের নিয়মিত কিছু কাজ করতে হবে – প্রতিনিয়ত কোডিং ল্যাংগুয়েজ নিয়ে পড়াশোনা করা, কারণ প্রতিনিয়ত কোডিং এর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হচ্ছে। নির্দিষ্ট একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করা, কোডিং সম্পর্কিত ব্লগ পড়ার অভ্যাস গড়া, এই বিষয়ে ব্লগে লেখালেখি করা, বিভিন্ন গ্রুপে এ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেয়া। এভাবে আপনাকে আপনার