Main Menu

স্মার্টফোন এবং স্মার্ট ইকো সিস্টেম নিয়ে কাজ করবে স্মার্ট টেকনোলজিস

বিশ্বের শীর্ষ তিনটি মোবাইল ব্র্যান্ড নিয়ে দেশের বাজারে কাজ করেছে স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড। হুয়াওয়ে, মটোরোলা ও লেনোভো। এরমধ্যে হুয়াওয়ে প্রযুক্তির ‘ফুল পোর্টফোলিও’ নিয়ে কাজ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। নতুন বছরকে টার্গেট ধরে হুয়ায়ের সব প্রোডাক্ট নিয়ে বাংলাদেশ মার্কেটে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (টেলিকম বিজনেস) সাকিব আরাফাত।

তিনি বলেন, টেলিকম ব্যবসায়ে ২০১৯ আমাদের জন্য ছিল একটা মাইলফলক। দেশে যে কারখানা হয়েছে সেখানে লোকাল (স্থানীয়) প্রোডাকশন হচ্ছে। এই বাজার বড় হচ্ছে। আমাদেরও (স্মার্ট টেকনোলজিস) হাইটেক পার্কে কারখানার জন্য জায়গা নেওয়া আছে। আমাদের দুই ব্র্যান্ড হুয়ায়ে এবং মটোরোলা-লেনোভোর অনুমতি পেলেই উৎপাদনের জন্য কাজ শুরু করবো।

সাকিব আরাফাত বলেন, আমাদের ব্র্যান্ড আসলে তিনটা কিন্তু কোম্পানি দুটো। হুয়াওয়ে ও লেনোভো (মটোরোলা লেনোভোর)। আমাদের ব্র্যান্ড কৌশল যদি বলি, হুয়াওয়ের ন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউটর আমরা। এছাড়া এটির ফুল ইকোসিস্টেমকে ২০২০ সালে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। হুয়াওয়ে শুধু মোবাইলের বিজনেসের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি জানান, আগে মোবাইলের সঙ্গে অ্যাকসেসরিজ বিক্রি হতো, এখন অ্যাকসেসরিজ ও ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মোবাইল বিক্রি করবো। ইকোসিস্টেমটা গুরুত্বপূর্ণ। স্মার্টফোনের সঙ্গে লাইফকে আরও কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, ল্যাপটপ, ওয়াইফাই-স্মার্টওয়াচ- ফুল ইকোসিস্টেমকে কিভাবে তৈরি করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া হবে। চলতি বছর এটা নিয়ে হুয়াওয়ে থেকেও অনেক বড় পরিকল্পনা আছে।

মটোরোলার জন্য সুখবর হলো, মার্কেটে সব জায়গায় স্মার্টফোনটি আছে। ২০১৯ সালে মুনাফা ধরে রেখে ব্যবসা করেছে। ২০২০ সালে এতে ভালো একটি বিনিয়োগ আসবে। এটিকে দেশে সফলতার সঙ্গে টিকিয়ে রাখা গেছে। যদিও স্বল্প পরিসরে ব্যবসা করেছি তবুও ব্যবসা হচ্ছে । দেশের প্রায় প্রতিটি অনলাইনে খুব সক্রিয়ভাবে আছে মটোরোলা। এর বাইরে অফলাইনে ১০-১২টি জেলায় মটোরোলা আছে বলে জানান সাকিব আরাফাত।

তিনি বলেন, মটোরোলা ভালো করার কারণ হলো এর গুণগত মান। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম, স্টক অ্যান্ড্রয়েড, নিয়মিত আপডেট আর মটোরোলার বিক্রোয়োত্তর সেবাও রয়েছে আলোচনায়। ফোনটিতে সমস্যা নেই বললেই চলে।

এক প্রশ্নের জবাবে স্মার্টের এই পরিচালক বলেন, আমাদের পোর্টফোলিতে তিনটি ব্র্যান্ডকেই রাখব। এরমধ্যে হুয়াওয়েকে আমরা বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। কারণ হুয়াওয়ের সঙ্গে স্মার্ট টেকনোলজিসের ফুল ইকোসিস্টেমকে আমরা স্যুট করাতে পারবো। হুয়াওয়ে থেকে চলতি বছরে ভালো একটা ‘রেভিনিউ জেনারেট’ করা যাবে বলে আমরা আশাবাদী।

এসময় মার্কেট branding এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, আমরা তিনটি বিষয়ের ওপর খেয়াল রাখি- প্রাইস, কোয়ালিটি ও বেনিফিটস। আমরা ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড মার্কেটিং কে আসলে এর বেনিফিটস হিসাবে দেখি। আমাদের ব্র্যান্ড থেকে কাস্টমার আসলে কি বেনিফিট পাচ্ছে সেটিকে প্রাধান্য দিয়েই আমরা আমাদের ব্র্যান্ড মার্কেটিং প্ল্যান সাজিয়ে থাকি, ব্র্যান্ড মার্কেটিং করলাম কিন্তু benfits গুলো কাস্টমার কে বুঝাতে পারলাম না, বেনিফিট দিতে পারলাম না, এটা longterm কোনো strategy না।

টেলিকম গ্রাহকদের প্রতি এই তরুণ স্মার্ট পরিচালকের পরামর্শ হলো-মোবাইল কেনার আগে এখন ক্রেতাদের সবার আগে দেখা উচিৎ এর গুনগত মান, তবে কাস্টমার এর ডিমান্ড এর একটা ট্রেন্ডতো থাকেই। যেমন, কোয়ালিটিও চাই, ব্র্যান্ডও চাই। কিন্তু এখনও যে জিনিসটা কাস্টমারের জানা দরকার, কোয়ালিটি যদি না থাকে, যদি কোনো ব্র্যান্ড শুধু জিনিসপত্র দিয়ে ভরতে থাকে, যেমন ধরেন ৮ জিবি দিয়ে দিলাম, ৬ জিবি দিয়ে দিলাম কিন্তু এর সঙ্গে কোয়ালিটি chipset ম্যাচ করাতে পারলাম না, ডিসপ্লে ম্যাচ করাতে পারলাম না, ব্যাটারি পাওয়ার ম্যাচ করাতে পারলাম না এটাতো ভালো না তাই না।

মোবাইল কেনার আগে প্রথম পাঁচটি বিষয়ের কথা যদি বিবেচনায় আনতে বলেন, তাহলে সবার প্রথমে হবে কোয়ালিটি, এরপর এই হ্যান্ডসেটের সঙ্গে আশেপাশে কি ব্যবহার করতে পারছি।

যেমন, এটা নিয়ে কি স্মার্ট লাইফের সঙ্গে নিজেকে অ্যাড করতে পারছি কিনা, এরপরে বেনিফিট, এরপর আফটার সেলস সার্ভিস, প্রাইস ও অন্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। তবে দাম যার বেশি কোয়ালিটি তার ভালো এ কথাটা মোবাইল কেনার সময়ে বিশেষ করে ব্র্যান্ড মোবাইল কেনার সময়ে একটু মনে রাখতে হবে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

82 − 74 =