ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায় আলোচনার শীর্ষে ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ও ট্রিপল প্লে’
নিরাপদ ইন্টারনেট ও ইন্টারনেটকে নিরাপদ রাখা−এই দুই-ই এখন আলোচিত হচ্ছে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায়। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত তিন দিনের এই মেলায় বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে থাকা ইন্টারনেট দুনিয়াকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায় এবং কীভাবে ইন্টারনেট দুনিয়ায় নিজেকেও নিরাপদ রাখা যায়, সেসব বিষয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের উপযোগী ইন্টারনেট সেবা চালু রাখা গেলে তা নিরাপদ হিসেবে সবার কাছে গণ্য হবে। এর নিয়ন্ত্রণ বাবা-মায়ের হাতে থাকার পথও খোলাসা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল হলো শিশুদের জন্য আপত্তিকর বা অনুপযুক্ত হতে পারে এমন ওয়েবসাইট ব্লক বা ওয়েবসাইট কন্টেন্ট ফিল্টার কীভাবে করতে হয় সেটি ব্যাখ্যা নির্দেশ করে।
অন্যদিকে ঢাকা শহরের ঝুলন্ত তার অপসারণ করে একই তাদের মাধ্যমে যদি তিনটি সেবা (ট্রিপল প্লে) নিশ্চিত করা যায়, তাহলে সেটাও সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। এই সেবার সুবিধা কী কী, তা প্রদর্শন করা হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায়।
পরিবারের সদস্য বিশেষ করে সন্তানদের বিভিন্ন অশ্লীল সাইট ও জুয়ার সাইটে প্রবেশ বন্ধ ও আসক্তি ঠেকাতে যাতে করে অভিভাবকরা ব্যবস্থা নিতে পারেন, সে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এসব নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে ব্রডব্যান্ড সংযোগে যেকোনও ওয়েবসাইট বা কনটেন্ট ব্লক করতে আইএসপিদের জন্য ‘প্যারেন্টাল গাইড’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটা থাকলে অভিভাবকরা তাদের সন্তান কোন কোন সাইটে প্রবেশ করছে, কতক্ষণ সময় কাটাচ্ছে, কী দেখছে, এসব বের করতে পারবেন। সরকারের নির্দেশনা মেনে এরই মধ্যে কয়েকটি আইএসপি প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান চালুর অপেক্ষায় আছে।
এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, একজন অভিভাবক চাইলে তার সন্তান বা পরিবারের সদস্যদের কম্পিউটার বা মোবাইল ইন্টারনেটে অশ্লীল, বিপজ্জনক, ক্ষতিকারক ওয়েবসাইট ও কনটেন্ট ব্লক করে দিতে পারবেন। তিনি জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের (আইএসপি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্কও এর আওতায় আসবে। তিনি বলেন কেবল নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করা নয়, ইন্টারনেটও নিরাপদ রাখতে হবে। তাহলে এই সমাজ, পরিবার, ব্যক্তি, রাষ্ট্র সবাই নিরাপদ থাকবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা আয়োজনে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মেলা ভালো হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই আমরা প্রযুক্তিপ্রেমীদের বিপুল সাড়া পেয়েছি। আমরা মনে করি, এই মেলা ইন্ডাস্ট্রির লোকদের জন্য। মেলার প্রথম দিন থেকেই ইন্ডাস্ট্রির লোকদের উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।
মেলায় ট্রিপল প্লে এক্সপেরিয়েন্স জোন রয়েছে। এটি স্থাপন করেছে আম্বার আইটি। ওই জোনে গিয়ে একই ক্যাবল দিয়ে কথা বলা যাচ্ছে, ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে এমনকি ডিশ সংযোগের মাধ্যমে স্যাটেলাইট চ্যানেলও দেখা যাচ্ছে। এই ব্যবস্থা সারা দেশে (বিশেষত ঢাকায়) চালু করা গেলে ঢাকার শহরের ঝুলন্ত তারের (ওভারহেড ক্যাবল) জঞ্জালও কমবে।










