Main Menu

দুই মিনিটের মধ্যে চার্জ হবে স্মার্টফোন

কবার ভাবুন তো, মাত্র ১০ মিনিটেই যদি বৈদ্যুতিক গাড়ি আর ২ মিনিটেই স্মার্টফোন পুরোপুরি চার্জ হয়ে যায় এবং সারা দিন চলে কেমন হবে! এত দিন যা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হতো, তা দ্রুতই সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী শক্তি সংরক্ষণ (এনার্জি স্টোরেজ) প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে দ্রুতগতিতে চার্জ দিয়ে তা দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করা যাবে। আইএএনএসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষকেদের উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তি প্রমাণের ধারণার পর্যায়ে থাকা অবস্থায় দারুণ সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক যানবাহন, ফোন, পরিধানযোগ্য প্রযুক্তিসহ বেশ কয়েকটি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার এনার্জি’ শীর্ষক সাময়িকীতে। এতে বলা হয়েছে, উচ্চশক্তির ও দ্রুতগতির সুপার ক্যাপাসিটরের যে সমস্যা থাকে, নতুন প্রযুক্তিতে তা সমাধান করা গেছে। এতে অল্প জায়গার ভেতর বেশি শক্তি ধরে রাখা সম্ভব ছিল না।

গবেষণা প্রবন্ধের লেখক ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক ঝুয়াংনান লি বলেছেন, ‘আমাদের নতুন সুপার ক্যাপাসিটর পরবর্তী প্রজন্মের শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তির হিসেবে বর্তমান ব্যাটারি প্রযুক্তির প্রতিস্থাপন বা এর পাশাপাশি ব্যবহার করা হতে পারে। এতে ব্যবহারকারী আরও শক্তি সঙ্গে রাখতে পারবেন।’

লি আরও বলেন, তাঁরা এমন উপকরণ নকশা করেছেন, যা তাঁদের সুপার ক্যাপাসিটরকে একটি উচ্চ শক্তি ঘনত্ব দেয়। এটি দ্রুত চার্জ হওয়া ও চার্জ ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখতেও পারবে। সাধারণত, এখনকার ব্যাটারি এসব বৈশিষ্ট্যের কোনো একটি পাওয়া যায়। কিন্তু নতুন সুপার ক্যাপাসিটরে উভয় সুবিধাই পাওয়া যায় বলে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্ভাবন। এ ছাড়া পারফরম্যান্সের কোনো তারতম্য না করেই ওই সুপার ক্যাপাসিটর ১৮০ ডিগ্রি বাঁকানো যায়। এতে কোনো তরল ইলেকট্রোলাইট ব্যবহার করা হয়নি বলে বিস্ফোরণের ঝুঁকিও কম। তাই পরিধানযোগ্য প্রযুক্তিপণ্য ও ভাঁজ করা ডিভাইসে এটি ব্যবহার করা যাবে।

নতুন সুপার ক্যাপাসিটর তৈরিতে একদল রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও পদার্থবিদ একসঙ্গে কাজ করেছেন। এতে উদ্ভাবনী গ্রাফিন ইলেকট্রোড উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।

নতুন উদ্ভাবন করা সুপার ক্যাপাসিটরের প্রশংসা করেছেন ইউসিএল ম্যাথামেটিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক ইভান পারকিন। তিনি বলেন, বিশাল শক্তি সফলভাবে কমপ্যাক্ট সিস্টেমে সংরক্ষণ করার বিষয়টি নতুন স্টোরেজ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিকস ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে কাজে লাগানো যাবে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

+ 85 = 91