ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের জয়জয়কার, ফাইভ-জির আগমনী ধ্বনি
দেশে এখন ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেটের জয়জয়কার। পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক তথা ফাইভ-জি চালু হওয়ার আগে প্রযুক্তিপ্রেমীদের সত্যিকারের গতির অভিজ্ঞতা দিতে তাদের পছন্দের শীর্ষে এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। রাজধানীতে শুরু হওয়া ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা ঘুরে এমনটাই জানা গেলো। জানা গেলো, ফোর-জির চেয়ে অন্তত ২০ গুণ বেশি গতির হবে ফাইভ-জি।
মেলায় দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইএসপিগুলো তাদের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের নতুন নতুন প্যাকেজ অফার করছে। দাম কমিয়ে ভ্যালু অ্যাড করে (নতুন নতুন সেবা যোগ করে) গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। সেফ ইন্টারনেট তথা প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, আইপি টেলিফোনি, আইপি টিভি ইত্যাদি যোগ করে গ্রাহককে তুলনামূলক কম দামে মেলায় তাদের সেবা অফার করছে।
এ বিষয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি মো. আমিনুল হাকিম বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রথমবারের মতো ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা আয়োজন করলো। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে আইএসপিএবি। আইএসপিএবির সব ধরনের সহযোগিতায় সফলভাবে শুরু হলো প্রথম ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা।
মো. আমিনুল হাকিম আরও বলেন, আমরা ফিক্সড ব্রডব্যান্ড নিয়ে আশাবাদী। বাসাবাড়িতে এর ব্যবহার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। প্রবৃদ্ধি ভালো। গত মাসে আমরা গ্রাহকদের যে পরিমাণ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ব্যবহার দেখেছি, এটা এই মাসে ৪-৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। এটা আমাদের জন্য একটা আশার খবর।
এদিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, এ সংখ্যা ৫৭ লাখ ৩৯ হাজার।
জানা গেছে, করপোরেট অফিসের চেয়ে বাসাবাড়িতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এখন বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে যার ছিল উল্টোচিত্র। আইএসপিএবি বলেছে, বাসাবাড়িতে বর্তমানে মোট ব্যবহার হওয়া ব্যান্ডউইথের প্রায় অর্ধেক ব্যবহৃত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে ১০ ও ২০ এমবিপিএস গতির ব্যান্ডউইথের চাহিদা বেশি। সংগঠনটি আরও জানায়, গত এক বছরে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহক বেড়েছে ১৫ লাখের বেশি, যার বেশিরভাগই বাসাবাড়িতে। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ, মোবাইল ইন্টারনেট থাকার পরও বাসাবাড়িতে ওয়াই-ফাই সংযোগ চালুর হার বেড়েছে। বাসাবাড়ির ইন্টারনেটে ভালো রেজ্যুলেশনে মুভি দেখা, ইউটিউবে শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা, অনলাইনে গেম খেলা, রান্নার অনুষ্ঠান দেখা, নাটক দেখা হয় বেশি।










